#গল্প পর্ব \"দুই\"ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছিআফছানা খানম অথৈঅপূর্ব ও সীমার ভালোবাসার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতম হয়ে উঠল।ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে দুজন দুজনকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াই।ফোনালাপন তো আছে সময় পেলে শুরু হয় আলাপন।সীমা কথা বলছে মা ডাক দেয়,সীমা খেতে আয়।সীমা মুখ চেপে ধরে আস্তে করে বলে,অপূর্ব এখন রাখি,মা ডাকছে।ওকে ডার্লিং। বাই বাই বাই।সীমা মা-বাবা ছোট ভাইয়ের সঙ্গে খেতে বসলো।তখনি তার মুঠোফোন বেজে উঠল।মা বলল,কার ফোন বাজছে?সীমার ছোট ভাই ইমন বলল,আমার না মা।তবে কার?সীমা ফোন কেটে দিলো।কিন্তু অপূর্ব থেমে নেই।কল দিয়ে চলেছে।এবার আবার মা বলল,কিরে কার ফোন বাজছে,ধরছিস না কেন?এবার সীমা বলল,মা আমার ফোন,দীপা করেছে।তো ধরছিস না কেন?এইতো মা খাওয়া শেষ করি।কোনমতে সীমা খাওয়া শেষ করে কল দিয়ে অপূর্বকে কড়া ভাষায় বলে,অপূর্ব তুমি কি পাগল?কেন কি হয়েছে?কি হয়েছে মানে তুমি দেখছ আমি বারবার ফোন কেটে দিচ্ছি।তবুও তুমি কল দিচ্ছ,,,,.।আহা রাগছ কেন,সমস্যা কি বলবে তো?সমস্যা কি মানে,সবার সামনে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছি।আর তখনি তোমার কল আসল।উহু সেই কথা,সরি ডার্লিং ভুল হয়ে গেছে।ভুল করে সরি বলছ।কিছুক্ষণ আগে কথা বললাম।এরই মধ্যে এত প্রয়োজন পড়লো কেন?কি করবো ডার্লিং তোমার সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারছিনা যে।তাই বলে মিনিটে মিনিটে সেকেন্ডে সেকেন্ডে কল করবে?ওকে ভেরি ভেরি সরি, আর এমন ভুল করবো না।কাল ভার্সিটিতে আসবে তো?কালকের কথা কাল বলবো।এখন রাখ।রাখবো তো, তার আগে বলো কাল ভার্সিটিতে আসবে তো?অপূর্ব তোমার মাথায় ছিট্ আছে মনে হয়।হতে পারে,আর এসবের মূল হচ্ছ তুমি।বারে আমি আবার কি করলাম?কি করলে মানে তোমাকে ভালোবাসার কারণে আমার মাথায় ছিট্ দেখা দিয়েছে।এখন ডাক্তার না দেখালে কিন্তু আরও খারাপ হয়ে যাবে।সত্যি?হুম সত্যি।প্লিজ তুমি কিন্তু কাল আসবে। তোমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব।ওকে অপূর্ব এখন রাখ।গুড নাইট।কোনমতে ফোন রেখে দিলো সীমা।এমন সময় ছোট ভাই ইমন এসে বলল,আপু আমি সব শুনেছি। তুমি কার সঙ্গে কথা বলেছিলে?বল দেখি কার সঙ্গে?তোমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে।মাকে বলে দেব কিন্তু।সীমা পড়লো মহাবিপাকে। ইমন যদি মাকে বলে দেয় নিশ্চিত একটা কেলেংকারি বেঁধে যাবে।যেমন করে হোক তাকে ম্যানেজ করতে হবে।তাই ছোট ভাইকে আদর করে বলল,লক্ষি ভাই আমার মাকে কিছু বলিস না।না আমি বলে দেব।প্লিজ ভাই বলিস না।তো আপু আমার একটা শর্ত?বল ভাইয়া কি শর্ত?আমাকে বোনাস দিতে হবে।ওকে ভাই দেব।এইনে তোর বোনাস।বলতে না বলতে সীমা ব্যাগ থেকে একটা পাঁচশত টাকার নোট গুজে দিয়ে বলল,প্রমিস কর আর বলবি না তো?আপু প্রমিস করলাম,আর বলবো না।দুভাই বোন মিট হয়ে গেল।পরদিন সীমা ভার্সিটিতে গেল।ক্লাস শেষ করে দুজন একসঙ্গে বেরিয়ে পড়লো।পার্কের বেঞ্চিতে দুজন বসলো।অপূর্ব বলল,সীমা চোখ বন্ধ কর।কেন কেন?প্লিজ জেরা না করে চোখ বন্ধ কর তো?না করবো না।প্লিজ প্লিজ আগে চোখ বন্ধ কর।তারপর বলব।ওকে এই আমি চোখ বন্ধ করলাম।আমি না বলা পর্যন্ত কিন্তু খুলবে না।ইটস ওকে।সীমা চোখ বন্ধ করলো।অপূর্ব তার হাতের মাঝের আঙ্গুলে একটা স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দিলো।সীমা চোখ খুলে দেখে বলে,অপূর্ব এ তুমি কি করলে?কি করলাম মানে, ভালোবাসা পাকাপাকি করলাম।তাই বলে এত তাড়াহুড়া করে।তাড়াহুড়া না করে কি উপায় আছে?মানে!মানে হলো, তোমার ফাইনাল এক্সাম আর বেশী দূরে না, মাত্রতো কটা দিন।তো কি হয়েছে?কি হয়েছে মানে বুঝলে না।না বুঝলাম না।পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যদি অন্য কোথাও তোমার বিয়ে দিয়ে দেয়।তাই আগে বাগে এনগেজম্যান্ট করে রাখলাম।তুমি আমার ছাড়া যাতে অন্য কারো না হতে পার।তার জন্য আগে বাগে প্ল্যান করে রেখেছ এই তো।হুম।অপূর্ব এসব স্বর্ণ অলংকারে কখনো ভালোবাসা পাকা হয়না।ভালোবাসা পাকা হতে হলে একে অপরের মাঝে বিশ্বাস থাকতে হবে।তবে ভালোবাসা পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে।এর ব্যতিরেকে নয়।ওকে ডার্লিং ঠিক বলেছ।আমার ভালোবাসার উপর একশ পার্সেন্ট বিশ্বাস আছে।এক পার্সেন্ট ও কম না।আর এই জন্য বুঝি বায়না দিলে?সীমা তুমি কিন্তু আমাকে বারবার অপমান করছ।আশ্চার্য তো,কখন আমি তোমাকে অপমান করলাম?এই যে বার বার আমার ভালোবাসার দেয়া উপহারকে তুমি বায়না বলে অপমান করছ।অপূর্ব\'র কথা শুনে সীমা খিলখিল করে হেসে উঠল।তার হাসি শুনে অপূর্ব\'র রাগ আরও বেড়ে গেল।সে মুড অফ করে বসে আছে।আর বুঝতে পেরে সীমা বলল,অপূর্ব কি হয়েছে,মুড অফ কেন?না কিচ্ছু হয়নি,এমনি,,,।তুমি কিন্তু মিথ্যে বলছ,কারণ ছাড়া কেউ মুড অফ করে?কি করবো, তুমিতো আমার কোনো কথায় পাত্তা দিচ্ছ না?ওহঃ সেই কথা,অপূর্ব আমি তোমাকে নিয়ে একটু মজা করেছিলাম।আর তুমি তাও বুঝলে না?তা বুঝলাম,সীমা একটা সত্য কথা বলবে?বল কি কথা?তুমি সত্যি আমাকে বিয়ে করবে তো?তাকে ক্ষ্যাপানোর জন্য সীমা আবার বলল,চেষ্টা করে দেখব।আবার চেষ্টা,আমি এত কিছু বুঝি না।এক্ষণি বলবে,তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা?বিয়ে করবে কিনা?বোকা,মনের মানুষের সাথে একটু মজা করলাম।তুমি এও বুঝলে না?আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি,তোমাকে বিয়ে করবো।এবার খুশি তো?ওকে ডার্লিং অনেক অনেক খুশি।তাহলে ফেরা যাক।ওকে চলো।দুজন বাসায় ফিরে গেল।সীমা বাসায় এসে দেখ,তার মামাতো বোন রোদেলা তার স্বামীকে নিয়ে তাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে।তাদেরকে দেখামাত্র সীমা সালাম দিয়ে বলল,হাই আপু দুলাভাই কখন এলে,কেমন আছো?সীমা আমরা ভালো আছি।কিছুক্ষণ আগে এসেছি।সপ্তাহ খানেক থাকবো।আর তোমাকে নিয়ে বিভিন্ন জাগায় ঘুরবো।তাহলে তো খুব মজা হবে।কি বল আপু?আমিও তোমাদের সাথে একমত।ওকে আপু আর কথা নয় চলো খাব।সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসলো।সেদিনের মতো আবার ও সীমার মুঠোফোন বেজে উঠল।সবাইর মুঠোফোন চেকিং হয়ে গেছে।এ বলে আমারটা না, ওবলে আমারটা না, তাহলে কার?কোনো এক ফাঁকে সীমা ফোন কেটে দিলো।যাক আজ আর অপূর্ব পূণরায় কল দিলো না।খানা শেষ করে সীমা কল দিয়ে শুরুতে বলে,অপূর্ব তোমাকে বলেছিনা, মিনিটে মিনিটে সেকেন্ডে সেকেন্ডে কল না দিতে।রাগ করছ কেন লক্ষিটি। তুমি বাসায় ঠিকমতো পৌছেছ কিনা তা জানার জন্যতো ফোন দিয়েছি।তাই বলে ডাইনিং টেবিলে সবার সামনে?বারে আমি কি জানতাম যে তুমি ডাইনিং টেবিলে।তবুও কল করার লিমিট থাকা দরকার।তা অবশ্যই ঠিক বলেছ।ঠিক আছে আজ থেকে তুমি যখন ফ্রি হবে তখন একটা মিসড কল দেবে,আমি ব্যাক করবো।ওকে এ কথায় রইল।এর ব্যতিরেকে আমাকে ডিস্টার্ব দিবেনা।আর ও হ্যাঁ আর একটা কথা, আমার মামাতো বোন তার স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে।আমি ওদেরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকব।যখন তখন কথা বলতে পারবো না।সাবধান আমার মিসড কল ছাড়া কল দিবে না,মনে থাকে যেন।ওকে মনে থাকবে।তবুও সময় করে কল দেব।জানো তো তোমার সঙ্গে কথা না বলে আমি থাকতে পারি না।ওকে টেনশন করো না।আমি সময়মতো কল দেব।এখন রাখি।বাই বাই বাই,,,।
0 Comments