কানাডা থেকে শুধুমাএ এওয়ার্ড নেওয়ার জন্য দেশে আসে রাজঅংশু চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র রিভান ঋত্বিক চৌধুরী। রাজঅংশু চৌধুরীর দুই ছেলে জ্যেষ্ঠ রিভান ঋত্বিক চৌধুরী,আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যবসায়ী,আর কনিষ্ঠ ঋদ্ধিমান চৌধুরী, সদ্য এসএসসি পাশ করা তরুণ।
ঋত্বিক এখন দেশের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী, একজন প্রকৃত বিজনেস ম্যাগনেট।গত দুই বছর ধরে রাজঅংশু চৌধুরী কয়েক শতবার ছেলেকে দেশে আসার কথা বললেও আসেনি ঋত্বিক। কারণ একটাই তার পরিবার চায় সে বিয়ে করে সংসার করুক, কিন্তু ঋত্বিক এখনো বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়।তাছাড়া আজ পর্যন্ত কোন মেয়েই তার মনে দাগ কাটতে পারেনি। কোন মেয়েই তার পছন্দ হয় না।তবু আজ সে ফিরছে,কারণ একটাই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও নামী স্কুল এভিয়া মডেল স্কুল-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে তাকে।এই স্কুল থেকেই একসময় লেটার পেয়েছিল সে।
স্কুলে আজ পুরস্কার পাবে সেসব শিক্ষার্থীও,যারা গত একশ বছরে জিপিএ ফাইভ বা লেটার নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে।ঋত্বিকের ছোট ভাই ঋদ্ধিও এবার এসএসসি-তে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। অর্থাৎ, তারও আজ পুরস্কার পাওয়ার দিন।
সকালে রাজঅংশু চৌধুরী ঋদ্ধিকে নিয়ে এয়ারপোর্টের পথে রওনা দিলেন।সকাল আটটা নাগাদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যান তারা।পাঁচ মিনিট পরই ঋত্বিকের ফ্লাইট ল্যান্ড করে।বিমান থেকে নামতেই ঋদ্ধি দৌড়ে গিয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরলো।দুই বছরের বিরতি যেন মুহূর্তেই গলে গেল।ঋত্বিকও পরম স্নেহে ভাইকে বুকে টেনে নিল, তারপর বাবার দিকে এগিয়ে গেল।
রাজঅংশু চৌধুরী কিছু বলার আগেই ঋত্বিক প্রণাম করতে ঝুঁকল,কিন্তু রাজঅংশু চৌধুরী তাকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বাবা-ছেলের ভালোবাসায় মুহূর্তটা নিঃশব্দ হয়ে রইলো।
দুই ছেলেকে ভিতরের সিটে বসিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসলেন রাজঅংশু চৌধুরী। নিজের মনে গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি। ঋদ্ধি ঋত্বিককে তার জমানো সব কথা বলছিলো দুই ছেলেকে এভাবে দেখে রাজঅংশু চৌধুরীর মুখে সন্তুষ্টির হাসি।দুই ভাইয়ের এমন মধুর বন্ধন দেখে তার চোখ ভিজে এল।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাজঅংশু চৌধুরী তাদের বাড়ির সামনে গাড়ি থামালেন।
বাড়ির সবাই উত্তেজিত, দুই বছর পর সবার প্রিয় ঋত্বিক ফিরে এসেছে!বাইরে ভিড় জমেছে আশেপাশের মানুষদের।সবাই শুভেচ্ছা জানায়, হাত নেড়ে হাসে।ঋত্বিক বিনীতভাবে সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে ভেতরে ঢোকে।
ঋত্বিক ব্যাগটা লিভিংরুমে রেখেই ঋদ্ধির দিকে ঘুরে বলে,
“চল,\"
“ হুম চলো।”
ঠিক তখনই তাদের মা, নীলিমা চৌধুরী, দরজায় এসে দাঁড়ালেন।
“এই সময় কোথায় যাচ্ছিস তোরা দুটিতে? আগে কিছু খেয়ে নে তারপর না হয় বেরোবি।”
ঋত্বিক বললো,“মা, এখন সময় নেই। স্কুলের প্রোগ্রাম অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে। আমরা ফিরে এসে খাবো।”
নীলিমা চৌধুরী কিছু বলার আগেই দুই ভাই বেরিয়ে গেল।ড্রাইভিং সিটে ঋত্বিক, পাশে ঋদ্ধি, আর তাদের পিছনের গাড়িতে গার্ড।রাজঅংশু চৌধুরী সবসময় সতর্ক থাকেন তার ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কোনো ঝুঁকি নেন না।
দশ মিনিট পর গাড়ি এসে থামলো এভিয়া মডেল স্কুলের সামনে।ঋত্বিক নামতেই তার চোখে পড়লো ব্যস্ত রাস্তা, সাজানো গেট, উৎসবের আমেজ।
ঋত্বিক গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে সামনের সামনে পা এগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো,ঠিক তখনই রাস্তায় দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিল অরুবিন্দু সাহার একমাত্র কন্যা অনুশ্রী সাহা।কালো শাড়ি পরিহিত চোখে টানা কাজল, কপালে ছোট কালো টিপ, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক তার দৃষ্টিটা শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ ঋত্বিকের সামনে এসে হঠাৎ হোঁচট খেল অনুশ্রী।ঋত্বিকের পায়ে লেগে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল সে ঋত্বিক দ্রুত হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললো তাকে।এক মুহূর্তের জন্য সময় থেমে গেল।চোখে চোখ পড়লো।
ঋত্বিক যেন নিজেকে হারিয়ে ফেললো সেই কালো চোখের গভীরে।
“এই, ছাড়ুন!”অনুশ্রীর কণ্ঠে বিরক্তি।
শ্রীর রাগী কন্ঠে ঋত্বিকের ঘোর কাটল।সে দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।
“এভাবে পা সামনের দিকে রাখছেন কেন? পড়ে গেলে কী হতো আমার?”
“কিন্তু আপনি তো পড়েননি,” শান্তভাবে উত্তর দিল ঋত্বিক।
“তাই বলে পা দিয়ে রাস্তা আটকাবেন?”
বলে অনুশ্রী রেগে হনহন করে স্কুলের ভেতরে চলে গেল।
ঋত্বিক তাকিয়ে রইলো তার চলে যাওয়ার দিকে।
মৃদুস্বরে বললো,
“আমার ওই মেয়েটাকেই চাই… খোঁজ লাগাও।”
ঋদ্ধি হেসে উঠলো,
“তুমি না করলে আমি বিয়ে করবো! হেব্বি সুন্দর কিন্তু মেয়েটা।”
ঋত্বিক ঋদ্ধির মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বললো,
“এই তোর বিয়ের বয়স হয়েছে ?”
“তুমি তো বিয়ে করো না, বংশ রক্ষার দায়িত্ব আমারই নিতে হবে বোধহয়!”
বলেই ঋদ্ধি হেসে উঠলো।
“বেশি পাকা পাকা কথা না বলে চল, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।” ঋত্বিক বললো।
স্কুল প্রাঙ্গণে তখন ভিড়।চারিদিকে রঙিন আলো, হাসির শব্দ, করতালি।ঋত্বিক আর ঋদ্ধি নিজেদের সিটে বসলো।তখন অলরেডি প্রোগাম শুরু হয়ে গেছে। চারিদিকে গেস্টদের ভির। বেশ কিছুসময় পরেই মাইকে এ্যনাউসমেন্ট হলো এখন আমারা স্টেজে আসার অনুরোধ করছি আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন সফল ব্যাবসায়ি আমাদের প্রাক্তন ছাএ বলার সাথে সাথে ঋত্বিক উঠে স্টেজের দিকে যেতে শুরু করলো পরনে তার কালো শার্ট কালো প্যান্ট কালো সুট হাতে নামী ব্যান্ডের গোল্ডেন ওয়ার্চ পায়ে নামী কোমানির দামী বুট ঋত্বিক ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলো সবাই হতবাক এখনও তো কারো নাম এন্যাউস করে নি তাহলে এই ছেলে কেন উঠে স্টেজের দিকে যাচ্ছে ঠিক তখনো আ্যনাউস হলো রিভান ঋত্বিক চৌধুরী। সবাই করতালি তে ঋত্বিক কে স্বাগত জালানো। সবাই হা করে তাকিয়ে ছিলো তার তাকাবেই না কেন ঋত্বিক এতো সুর্দশন সে যদি টলিউডের দশ জন হিরো মধ্যে দাড়ায় সবার আগেই সেই সবার নজর কারবে। অনুশ্রী স্টেজের দিকে তাকাকেই মনে মনে বললো, \"এ তো সেই ছেলে যে গাড়ির সামনে পা এগিয়ে দাঁড়িয়েছিলো এর জন্যই তো আমি পরে যেতে গেছিলাম। এই ছেলে আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন সফল ব্যাবসায়ী।\" অনুশ্রী যেহেতু সামনের সিটে বসে ছিলো ঋত্বিক ও সহজেই দেখতে পেল দুজনের চোখাচোখি হলো।
ভিলেন ইজ দ্যা বেস্ট হ্যাজবেন্ড
সূচনা পর্ব
এই উপন্যাসটি একটি ব্যাতিক্রম উপন্যাস। উপন্যাসের নাম ভিলেন ইজ দ্যা বেস্ট হাসবেন্ড। নামটা বড় অদ্ভুত তাই না। মনে প্রশ্ন জাগে এই গল্পের নাম এমন কেন? কেউ গল্পের হিরোই বা কে? জানতে হলে পড়তে হবে ভিলেন ইজ দ্যা বেস্ট হাসবেন্ড
0 Comments