হঠাৎ বৃস্টির মধ্যে একটা মেয়েকে ভিজতে দেখে নায়কের বিরক্ত অনুভব হয় একসময় সেই তার ভালোবাসা ভালো থাকার কারন হয়ে যায়। কিন্তু কেউ কারে ভালোবাসার কথা প্রকাশ না করে না
সুপ্ত অনুভুতি
প্রচণ্ড বৃষ্টি নেমেছে শহরে। আকাশ যেন হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ছে এমন একটা অবস্থা। অঝোর ধারায় ঝরছে জল। রাস্তাঘাট মুহূর্তেই জলে ভরে উঠেছে। মানুষজন দৌড়ে দোকানের সামনে কিংবা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিচ্ছে। বজ্রের গর্জনে কেঁপে উঠছে চারদিক, যেন শহরের কোলাহলকেও চাপা দিয়ে দিয়েছে সেই শব্দ। একটা ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে আছে আভিক চৌধুরী। বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশের বেশি নয়। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি। চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ। বৃষ্টিতে এভাবে আটকে পড়ার মতো বোকা কাজ সে সাধারণত করে না। সময়ের প্রতি সে ভীষণ সচেতন। কিন্তু আজ ভাগ্যটাই যেন খারাপ গাড়িটা হঠাৎ মাঝরাস্তায় নষ্ট হয়ে গেছে। আভিকের দাদু দিলিপ চৌধুরীর দুই ছেলে বড় ছেলে অনিমেষ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে দ্বিপ চৌধুরী। অনিমেষ শ্রী নন্দিতা চৌধুরী এবং তাদের একমাএ পুএ আভিক চৌধুরী। অনিমেষ চৌধুরী পেশায় একজন বিজনেসম্যান অভিক বছর খানিক হলো লেখাপড়া শেষ করে তার বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়েছে। দিলিপ চৌধুরী ছোট ছেলে দ্বিপ চৌধুরী আর তার স্থী একটা দূর্ঘটনায় মারা গেছেন।তাদের একটি মেয়ে আছে দিঠি চৌধুরী দিঠি এবাং ইন্টার মিডিয়েট শেষ করছে। আভিক বিরক্ত চোখে সামনে ঝরে পড়া বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল।ঠিক তখনই তার চোখ আটকে গেল। রাস্তার ওপাশ থেকে একটা মেয়ে হেঁটে আসছে। না হাঁটা না, যেন বৃষ্টির সাথে খেলতে খেলতে এগিয়ে আসছে।কাঁধে ব্যাগ। মনে হচ্ছে কলেজ থেকে ফিরছে। লম্বা চুল ভিজে গাল বেয়ে নেমে এসেছে জলেরর ফোঁটা। অথচ মেয়েটার মুখে বিরক্তির ছিটেফোঁটাও নেই—বরং ঠোঁটে আনন্দের হাসি। যেন বৃষ্টিটাই তার বন্ধু। মেয়েটির নাম আনিকা। আভিক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।কি অদ্ভুত লাগছে তার মেয়েটাকে। হঠাৎ সে না চাইলেও বলে ফেলল, \"এই মেয়ে! এভাবে ভিজছো কেন? এখানে এসে দাঁড়াও।\" আনিকা থেমে গেল।ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল আভিকের দিকে।তারপর ঠোঁটে একটা দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। \"এই আপনি কে, যে আপনার কথা আমাকে শুনতে হবে?\" আভিক একটু থমকে গেল।এভাবে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস সে খুব একটা পায় না। আভিক ভ্রু কুঁচকে বলল \"মহা ফাজিল তো!\" মেয়েটা চোখ বড় করে তাকাল। \"কি বললেন? আমি ফাজিল?\" আভিক কাঁধ ঝাঁকালো। \"তা নয়তো কি?\" মেয়েটা ভ্রু তুলে বলল, \"আপনি ফাজিল!\" \"চুপ\" জোরে ধনক দিলো অভিক। আভিকের ধমকে আনিকার কাঁদো অবস্থা। সে এবার ঠোঁট ফুলিয়ে বলল, \" আপনি আমাকে বকলেন কেন? আমি কিন্তু কাঁদবো।\" কথাটা এমনভাবে বলল যে মনে হচ্ছিল সত্যিই কেঁদে ফেলবে।আভিক তাড়াতাড়ি হাত নেড়ে বলল, \"এই না না! ঠিক আছে, আর বকবো না।\" আনিকা তখন আবার হাসল। \"হ্যাঁ, এই তো ভালো।\" কিছুক্ষণ চুপ থেকে আভিক আবার বলল \"ছাতা আনোনি কেন?\" আনিকা চোখ ছোট করে তাকাল। \"কে বললো আনিনি?\" \"মানে এনেছো?\" \"হ্যাঁ।\" বলেই ব্যাগ থেকে একটা ছোট ভাঁজ করা ছাতা বের করল সে। \"এই যে!\" আভিক হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর বিরক্ত গলায় বলল \"তাহলে ভিজছো কেন?\" আনিকা হেসে বলল, \" ভিজতে আমার ভালো লাগে।\" আভিক কপালে হাত ঠেকাল। \"জ্বর আসবে।\" মেয়েটা মাথা নাড়ল। \"না আসবে না।\" তারপর একটু এগিয়ে এসে বলল \"আপনি ও আসুন না। একটু ভিজুন।\" আভিক সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে দিল। \"না। আমি ভিজবো না। ঠান্ডা লেগে যাবে।\" আনিকা হেসে উঠল। \"দূর! কিছু হবে না। আসুন না।\" \"না।\" \"আচ্ছা, না ভিজলে আর কি! কিন্তু ভিজতে কিন্তু অনেক মজা।\" আভিক মুচকি হেসে বলল \"জ্বর আসলে সেই মজা বের হয়ে যাবে।\" মেয়েটা গর্বের ভঙ্গিতে বলল, \"ওসব জ্বর-টর এই আনিকার কিচ্ছু করতে পারবে না।\" আভিক ভ্রু তুলল। \"তাই নাকি?\" \"তো কি মনে হয়?\" \"বেশি বুঝলে যা হয়!\" মেয়েটা একটু চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, \"আচ্ছা, আপনি কি খুব রাগী?\" \"কেন?\" \"মনে হলো।\" তারপর কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, \"আচ্ছা থাক, আমি তাহলে যাই। আপনি তো ভিজবেন না।\" আভিক শান্ত গলায় বলল, \"হ্যাঁ, যাও।\" আনিক আবার বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে চলে গেল। কিছুক্ষণ আভিক তাকিয়ে রইল তার পেছনের দিকে।মনে মনে বলল, \"মেয়েটা এমন কেন?এখনো যেন বাচ্চামি স্বভাব যায়নি\" ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কণ্ঠ শোনা গেল। \"স্যার, আপনার গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে।\" আভিক ঘুরে তাকাল। \"চলুন ম্যানেজার সাহেব।\" আদ্রিত্য একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল \"দুঃখিত স্যার, এতক্ষণ আপনাকে অপেক্ষা করানোর জন্য।\" আভিক বিরক্ত মুখে বলল, \"তুই আমাকে স্যার বলিস কেন? তুই আমার বন্ধু না?\" লোকটা মৃদু হেসে বলল, \"স্যার, কাজের সময় কোনো সম্পর্ক থাকে না। আপনি মালিক, আমি কর্মচারী।\" আভিক চোখ কুঁচকে বলল, \"তুই কি এখনো অফিসে আছিস নাকি?\" \"না।\" \"তাহলে এখন স্যার করছিস কেন?\" আদ্রিত্য একটু লজ্জা পেয়ে বলল, \"আচ্ছা, আমার ভুল হয়েছে। চল, এখন যাই।\" \"হুম, চল।\" দুজন গাড়িতে উঠে বসল।গাড়ি ধীরে ধীরে বৃষ্টিভেজা রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে লাগল। আভিক জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। কাঁচের উপর দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তার মাথায় ঘুরছে একটাই মুখ। ভিজে চুল… হাসিমাখা চোখ… আর সেই চঞ্চল কণ্ঠ। মনে মনে সে বলল, \"এই আনিকা…এমন কেন?\" সুপ্ত অনুভতি সুচনা পর্ব
0 Comments