একই গগনের তলে অজস্র জীবের বাস, অজস্র আচরণ ও অজস্র ভঙ্গিমার আভাস।কখনো দেখি পাগলের মুখে ব্যঙ্গ হাসি, কখনো শুনি বৃদ্ধের করুণাময় অনবরত কাশি।কখনো শিশুর হাসিতে পবিত্র সৃষ্টিকর্তার চমক। কখনো ক্রন্দনরত শিশুটি পান পিতার ধমক।কখনো বৃদ্ধ শিক্ষকের মুখ ঢেকে চলে যাওয়া,কখনো অবোধ ভাবুকের একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা ।কখনো ভিক্ষুকের পথিকদের প্রতি কাতঃস্বরে চাওয়া।কখনো তাদের আঁখিলোচন অশ্রু ভরা, কখনো আসমানের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করা।বিধাতা যেমন রবিকে দিয়ে দুনিয়া করেছে আলো, তেমনই প্রভু সকলের ক্ষুধার কুঠিরে চিরাগ জ্বালো।যৌবনের ঠেলায় অন্দরমহল দগ্ধিত অগ্নির গোলায়, এদিকে ওদিকে তাকাই মন সান্ত্বনায় জ্বালা মেটায়।বেকারদের কোন উপায় নেই, বেকার ভাবেই সময় কাটাই ।তাদের শুনিয়ে ব্যঙ্গ করে কয়েকজন কাটা ঘায়ে নুন দেয়।যেদিকে তাকাই কোথাও খালি নাই,ট্রেনের কামরা গেছে পোস্টারে ছেয়ে।\"যৌবন নিয়ে হতাশাগ্রস্থ\"নো টেনশন, শীঘ্রই আসো এই ঠিকানায়সেক্স স্পেশালিস্ট ডক্টর লোধ আপনারই জন্য অপেক্ষারত।বার্ধক্যে বধিরতায় কতকের জীবন কেটে যায়, মন সর্বদা ভাবুক জীবনের বাকি কয়েকদিন যেন সম্মানের সহিত কাটিয়ে দেয়া যায় ।পরিবর্তন এসেছে সমাজে, পরিবর্তিত হয়েছে আমাদের জেনারেশন ।বার্ধক্যের ছেলেবেলা কেটেছে বার্ধক্যের অনুশাসনেআজকের জেনারেশন বার্ধক্যকে করছে অনুশাসন ।আনমনে ,নত শিরে আর বধিরতায় কাটে বার্ধক্য জীবন ।ভবঘুরের ভালো লাগে না এই ট্রেনের কামরা তাই অন্য কামরাই করি আগমন ।আঁখি যেন স্থির হয়ে দাঁড়ায়, ট্রেনের এ কামরা ভরে গেছে তান্ত্রিক পরিষেবায়।কোথাও দেখি মা কামাখ্যার বশীকরণ আবার কোথাও দেখি মোহিনী বশীকরণ,কোথাও আলিবাবার লাজবাব তাবিজ, কোথাও খানবাবার তাবিজে গ্যারান্টিসহ বশীকরণ।দেখি আর ভাবি কোরান, গীতা, বাইবেল, হাদিসের বাণী, শয়তানের দল কেমনে বোকাদের বোকা বানিয়ে তাদের মেহনতে চড়ে এ.সি. গাড়ি, করে পাকা বাড়ি।শিশুর হাসিতে দেখি প্রভুর ছবি, নিজ মনে লিখে ফাগুনের পবনে ছোট্ট এক কবি।গ্রামের এক কোণে জেগে উঠেছে এক মেলা, যুবক যুবতীর ঠাট্টা হাসিতে কয়েক যুবক খুঁজে যুবতীর হাসিতে লুকিয়ে থাকা যৌবনের খেলা।না ভাবলে কিছুই নয়, ভাবলে কত কিছু হয় ভাবা।যুগল প্রেমির অন্তরালে পুষ্পটিত হয়েছে এক মায়া।একে অপরের চোখে চোখ রাখা, একটু ইশারায় হাসা। মোড়ে অপেক্ষারত প্রেমিক আর প্রেমিকার পিছু চাওয়া। হৃদয়ে হয়ত একটু শান্তি মিলে, পরিণত হয়েছে এটা তাদের নিত্য অভ্যাসে।অন্তরের ভালোবাসা অন্তরই জানে কেউ করে, কেউ করে না তার আত্মপ্রকাশ।তুমি কি ভেবেছ পথিক, কত সুন্দরই না এ দুনিয়ার মায়া।যতই দামী এসি গৃহ মোরা বানায়, মনে তৃপ্তি মিলে শুধু বৃক্ষ ছায়ায়। কত রূপে সাজে, কহেলির কুহু বটবৃক্ষ মাঝে।কখনো পাতার পত পত শব্দ, কখনো নিদ্রিত পুরুষের বেসুরা ধ্বনি, ভিন্ন ভিন্ন পক্ষীর ভিন্ন ভিন্ন কন্ঠের প্রতিযোগিতাযেন সংগীতের আসর বসে বটবৃক্ষতলে।কত অনুভূতি ফুটে ওঠে মনের মণিকোঠারে কোনটাই আছে মায়া, কোনটাই ফুটে ওঠে দয়া, কোনটাই প্রকাশ করে মমতা, কোনটা করে তাচ্ছিল্য।কোনটাই থাকে আলতো ছোঁয়া, যা আনে বদনে হাসি, কত অনুভূতিই না ফুটে ওঠে, করে শরীরে শিহরণ।কত অনুভূতি হয়ে যায় একেবারেই লুপ্ত। কত অনুভূতি সুপ্ত হয়ে প্রত্যহ দেয় যন্ত্রনা।অশ্রুই একমাত্র সাথী, করে ওর নিবারণা।বৃদ্ধ মুছে চোখের জল বৃক্ষতল ছায়ায়, হয়ত কোনো এক স্মৃতি কাঁটা দেয় মনে ব্যথায়।জীবনের এই ছোঁয়া কেন দাও খোদা, লাগে যে বড়ই একা।বড়ই অদ্ভুত জীবন পথিক, উপায় নেই কারো তা ভুলে যাওয়ার কর্ম একা আসা, একা যাওয়া এটাই দুনিয়ার ধর্ম ।।
একটি ভবঘুরের পথ চলা এবং তার স্মৃতিতে বিভিন্ন চরিত্রের চারিত্রিক বিষয়গুলো ধরা পড়েছে সেটা ব্যক্ত হয়েছে এই কবিতার মধ্যে দিয়ে । পুরো কবিতাটাই বাস্তবিক কোন কল্পনা নেই ।
0 Comments