উপন্যাস: তুমি প্রথম তুমি শেষ পর্ব \"ছয়\"আফছানা খানম অথৈকরিম মিয়ার আম-কাঁঠালে ভরা একটি বাগান আছে। দেখতে খুব সুন্দর। সারি সারি আম, কাঁঠাল, নারিকেল আর সুপারি গাছে বাগানটি সাজানো-গোছানো। পারুর যখন মন খারাপ থাকে, তখন সে এই বাগানে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয় এবং প্রকৃতির কাছে মনের দুঃখ প্রকাশ করে।এ কদিন মাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল পারু। আজ একটু সময় পেয়েছে, তাই হাওয়া খেতে বাগানে বের হয়েছে।হঠাৎ সামনে দৃষ্টি পড়তেই থমকে গেল পারু।এ কী দেখছে সে!তার প্রেমিক নিলয় বিষণ্ণ মনে তাদের সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।চোখে চোখ পড়তেই পারু হাতের ইশারায় তাকে ডাকল। নিলয়ও যেন এই ডাকেরই অপেক্ষায় ছিল। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো।পারু বলল,—নিলয়, তুমি এখানে? কখন এলে?—এই তো, কিছুক্ষণ আগে।—কেউ দেখেনি তো?—মনে হয় দেখেনি।—কেমন আছ?নিলয় মুচকি হেসে বলল,—তুমি ভালো থাকতে দিলে তো!—আমি আবার কী করলাম?—বসতে বলবে? নাকি আইনজীবীর মতো জেরা করবে?—সরি, সরি! ভুল হয়ে গেছে। বসো এই গাছতলায়।—এখানে তো ইজি চেয়ার নেই যে মেহমানকে বসতে দেব!—ওকে, আর লেকচার দিতে হবে না। তুমি আমার পাশে বসো।দুজন পাশাপাশি বসে পড়ল।পারুর দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে নিলয় বলল,—জান, এই কদিন তোমাকে না দেখে কী যে টেনশনে ছিলাম, তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। শেষ পর্যন্ত তোমাকে এক পলক দেখার জন্য ছুটতে ছুটতে এই বাগানবাড়িতে চলে এলাম।কথা বলতে বলতেই নিলয় পারুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।পারু লজ্জাবতী লতার মতো জড়োসড়ো হয়ে সরে গিয়ে বলল,—নিলয় সাহেব, বিয়ে না হতেই এত গভীরে যাওয়া ঠিক না। ভালোবাসা পাপ নয়, তবে ভালোবাসাকে অপবিত্র করা কঠিন পাপ। আজ থেকে সাবধান, হুঁশিয়ার!—ও গড! এত কড়া আইন মানতে পারলে তো?—অবশ্যই মানতে হবে। তা না হলে আমি আর এর মধ্যে নেই।—ওকে জান, ঠিক আছে।—নিলয়, তোমার যদি কিছু বলার থাকে, বলে দ্রুত কেটে পড়।—জান, এত দ্রুত কেন? এতদিন পর দেখা হয়েছে। একটু গল্প-সল্প করব, তা না! তুমি কিনা বলছ চলে যেতে! এ কেমন কথা?—নিলয়, একটু বোঝার চেষ্টা কর। এটা কলেজের মাঠ কিংবা পার্ক নয় যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রেমালাপ করা যাবে।—তো এটা তো একটা নিরিবিলি জায়গা। এখানে আলাপ করতে সমস্যা কোথায়?—নিরিবিলি স্থান, সেটা মানছি। কিন্তু এটা কৃষক করিম মিয়ার বাড়ি। আমার বাবা গরিব হলেও একজন ভালো মানুষ। এ মুহূর্তে আশপাশের কেউ যদি আমাদের এই রোমান্টিক দৃশ্য দেখে, তাহলে বাবাকে সবাই অপমান করবে। শুধু তাই নয়, আমাকে নিয়েও আজেবাজে নোংরা কথা বলাবলি করবে। তুমি কি চাও, তোমার ভালোবাসার মানুষটি এভাবে অপমানিত হোক?নিলয় কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,—না, তা আমি চাই না।—তাহলে দেরি না করে কেটে পড়।—জান, তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না যে।—বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত এত সোহাগ ভালো না।—তবুও জান, আর একটু থাকি? প্লিজ, না করো না।এ কথা বলে নিলয় দুষ্টুমি করে পারুর ওষ্ঠে চুমু এঁকে দিল।পারু তাকে সরিয়ে দিয়ে বলল,—এই তোমার আর একটু থাকা! দুষ্টু, পাজি কোথাকার!—সরি জান, ভুল হয়ে গেছে। কী করব? পাগল মন যে প্রবোধ মানছে না।—ওরে আমার পাগল প্রেমিক! ভাবসাব কিছু বোঝে না। আগে নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হোক, তারপর সবকিছু।—ওকে জান, তাই হবে।এর ফাঁকে শোনা গেল যোবেদা ও মুক্তার কণ্ঠস্বর।যোবেদা আর থেমে থাকতে পারল না। রোমান্টিক সুরে বলল,—নিলয় ভাইয়া, তলে তলে এতদূর! শেষ পর্যন্ত বাগানবাড়িতে চলে এলেন!নিলয়ও কম যায় না। সঙ্গে সঙ্গে বলল,—তো কী করব ম্যাডাম? কদিন ধরে পারু লাপাত্তা। ভাবলাম, কারও সঙ্গে পালিয়ে গেল নাকি! তাকে খুঁজতে খুঁজতে এত দূর চলে এলাম।যোবেদা বলল,—নিলয় ভাইয়া, বেশ হয়েছে! আর লেকচার দিতে হবে না। মিথ্যে বলার অভ্যাসটা আপনার আর গেল না।এবার পারু বলল,—প্লিজ, ঝগড়া থামিয়ে বল তোরা কখন এলি?মুক্তা বলল,—অনেকক্ষণ হলো। তোর কথা জিজ্ঞেস করতে চাচি বলল, তুই বাগানবাড়িতে আছিস। তাই চলে এলাম। কিন্তু এসে এ কী দেখলাম! নিলয় ভাইয়া, আমরা কিন্তু পুলিশ ডাকব।নিলয় অবাক হয়ে বলল,—কেন? কোনো সমস্যা?যোবেদা বলল,—সমস্যা হলো, বিয়ে না হতেই বান্ধবীকে নিয়ে রোমাঞ্চ! মানে কী?নিলয় হেসে বলল,—মানে একটু ভালোবাসাবাসি।—তা কদিনের জন্য?—চিরদিনের জন্য।যোবেদা এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল,—সত্যি মন থেকে বলছেন, নাকি আবেগের মোহ?—সত্যি মন থেকে বলছি। পারুকে আমি খুব ভালোবাসি। তবুও বিশ্বাস হচ্ছে না?—না, ঠিক তা না। পুরুষ মানুষ তো কখন আবার কার প্রেমে পড়ে, বলা যায় না। তাই ভালো করে পরখ করে নেওয়া দরকার।নিলয় দৃঢ় কণ্ঠে বলল,—তা ঠিক। কিন্তু আমাকে অন্য আট-দশজন পুরুষের সঙ্গে তুলনা করবে না। আর পারু ছাড়া অন্য কোনো নারীর প্রেমে পড়ব, প্রশ্নই ওঠে না। আমার শিক্ষা জীবন শেষ করে পারুকে জীবনসঙ্গী করে প্রমাণ করব, আমার ভালোবাসা চিরদিনের জন্য।যোবেদা হেসে বলল,—ওকে ভাইয়া, তাই যেন হয়। যদি এর ব্যতিক্রম হয়, আমরা তিন বান্ধবী কিন্তু...—কী করবে? মারবে?—হুম, তাই।নিলয় হেসে উঠে দাঁড়াল।—তাহলে তো এখানে আর থাকা যাবে না। আমি এখন গেলাম। পরে দেখা হবে। বাই বাই বাই।নিলয় বিদায় নিল।পারু এরপর বান্ধবীদের নিয়ে গল্পের আসর জুড়ে দিল। কিছু সময় অতিবাহিত হলো। গোল লাল সূর্যটি তখন পশ্চিম আকাশে ডুবু ডুবু করছে।মুক্তা ও যোবেদার বাড়ি যাওয়ার তাড়া পড়ে গেল।মুক্তা বলল,—পারু, চাচি মোটামুটি সুস্থ। তুই কাল কলেজে যাবি না?—যাব। তবে কাল থেকে নিয়মিত যেতে পারব না। ডাক্তার আরও কদিন মাকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।—ঠিক আছে। তুই সময়মতো কলেজে যাবি। সামনে কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষা। তাছাড়া তুই আমাদের মধ্যে ফার্স্ট স্টুডেন্ট। তোর কলেজ কামাই করা সাজে না।—ঠিক বলেছিস। কিন্তু অসুস্থ মাকে রেখে যেতে তো পারি না। টাইফয়েড জ্বর বলে কথা।—তা অবশ্য ঠিক বলেছিস। আমরা এখন চলি। খোদা হাফেজ।—খোদা হাফেজ।তিন মাস পর।এর ফাঁকে কেটে গেল প্রায় তিন মাস।নিলয়ের রেজাল্ট বের হলো। সে ভালো রেজাল্ট করল। আনন্দে ছুটে গেল মামা-মামির কাছে। তাদের সালাম করতেই তারা প্রাণভরে আশীর্বাদ করলেন।তারপর আরমান মাস্টার স্কুলের সহকর্মীদের সবাইকে মিষ্টি খাওয়ালেন।এরপর আর দেরি করল না নিলয়। ছুটে গেল প্রিয়তমার কাছে।কিন্তু পারু আজও কলেজে আসেনি।ছুটির পর যোবেদা ও মুক্তা বেরিয়ে পড়ল। নিলয় এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,—হ্যালো আপু, আপনারা একা যে! সই কোথায়?মুক্তা বলল,—ভাইয়া, পারু আজ আসেনি।—তো কী সমস্যা? খবর নিয়েছেন?যোবেদা বলল,—তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে মনে হয় বিশেষ কোনো কারণ আছে। তা না হলে সে কলেজ কামাই করত না।—তো এখন উপায়?মুক্তা বলল,—ভাইয়া, নো টেনশন। বাড়িতে চলে যান।—না, এখনো বাড়িতে যাওয়ার সময় হয়নি।যোবেদা হঠাৎ বলল,—ভাইয়া, আর একটা কথা।—বল, কী কথা?—পারুকে প্রেমের লাইনে আনতে যা কষ্ট হয়েছে!নিলয় হেসে বলল,—কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পেলাম না—এই তো?—হ্যাঁ।—কি চাও তোমরা?যোবেদা বলল,—তেমন কিছু না। নতুন একটা মুভি চলছে—‘সুইট হার্ট’। পাটাপাটি সিনেমা। দেখতে চাই।—কখন দেখতে চাও?—কাল। পারু এলে একসঙ্গে যাব।—ওকে, ঠিক আছে। কাল কিন্তু পারুকে সঙ্গে নিয়ে আসবে।যোবেদা হেসে বলল,—ভাইয়া, নো টেনশন। অবশ্যই আনব। না আসতে চাইলে কিন্তু কানে ধরে নিয়ে আসব।একথা বলে তারা হা হা হো হো করে হেসে উঠল।পরদিন তিন বান্ধবী একত্রিত হলো। ছুটির পর নিলয়ের সঙ্গে যোগ হলো তারা।পারুকে রেখে যোবেদা ও মুক্তা চলে যাচ্ছিল। তখনই নিলয় বলল,—হ্যালো আপু, কোথায় যাচ্ছেন?যোবেদা বলল,—গন্তব্যস্থলে।—সিনেমা দেখবেন না?মুক্তা বলল,—আজ থাক। অন্যদিন দেখব।—অন্যদিন আবার কেন? আজকেই চলুন।যোবেদা মুচকি হেসে বলল,—আমরা গেলে আপনাদের সমস্যা হবে। বরং পারুকে নিয়ে যান। রোমান্স করুন!পারু ক্ষেপে উঠে বলল,—যোবেদা! তোর না লজ্জা-শরম বলতে কিছু নেই? এমন নির্লজ্জের মতো আর কখনো কিছু বলবি না। সিনেমা দেখতে বলেছিলি তোরা, আবার এত বায়না কেন করছিস? তুই না, পারিসও বটে! আমি চললাম।যোবেদা বুঝতে পারল, পারু সত্যিই রেগে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তার পথরোধ করে বলল,—পারু, ভেরি ভেরি সরি। একটু মজা করলাম। এর মধ্যেই তুই এত রেগে গেলি? চল, তাড়াতাড়ি। শো শুরু হয়ে যাবে।পারুর রাগ কিছুটা কমল।নিলয় দুটি রিকশা দেখে বলল,—এই, খালি যাবে?রিকশাচালক বলল,—কোথায় ভাইজান?—সিনেমা হলে।—হ্যাঁ, যাব।তারা রিকশায় উঠে বসল। এক রিকশায় পারু ও নিলয়, অন্য রিকশায় যোবেদা ও মুক্তা।কলেজ থেকে হল বেশি দূরে নয়। তাই যেতে বেশি সময় লাগল না।তিন বান্ধবীকে ওয়েটিং কক্ষে বসিয়ে রেখে নিলয় গেল টিকিট কাউন্টারে। ভিআইপি চারটি টিকিট কিনে ফিরে এলো।ম্যানেজারের সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে তারা হলের ভেতরে প্রবেশ করল এবং আসন পেতে বসল। সময়মতো মুভি শুরু হলো।কিছু সময় পার হতেই শোনা গেল,—এই বাদাম, লজেন্স, ঝালমুড়ি, চানাচুর! ঝালমুড়ি কে খাবেন? দেব ভাই, দেব?বলতে বলতে বালকটি নিলয়ের কাছাকাছি এসে গেল।নিলয় বাদাম, লজেন্স, চানাচুর ও ঝালমুড়ি কিনে তাদের হাতে দিল। তারা খেতে শুরু করল।তারপর নিলয় জিজ্ঞেস করল,—হ্যালো আপুরা, আর কিছু লাগবে?যোবেদা মজা করে বলল,—ভাইয়া, আমাদের লাগবে না। তবে পারুকে জিজ্ঞেস করে দেখেন।পারু সঙ্গে সঙ্গে বলল,—যোবেদা, আমার হয়ে তোকে ওকালতি করতে হবে না। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর স্বভাবটা এখনো তোর গেল না।যোবেদা রাগ করে বলল,—পারু, কী বললি? আমি সব সময় পরের ঘাড়ে দোষ চাপাই?—হ্যাঁ, তাই বললাম।—ঠিক আছে। আমি আর এর মধ্যে নেই।যোবেদার রাগের কারণ বুঝতে পেরে পারু বলল,—প্লিজ যোবেদা, আমাকে নিয়ে সব সময় মজা করিস। আজ না হয় তোকে নিয়ে একটু মজা করলাম। এর জন্য এত রাগ?—সরি সই, ভুল হয়ে গেছে।তখনই মুক্তা বলল,—তোরা থামবি? এটা কি বিতর্ক সভা? শুধু বকবক করিস, কিছুই বুঝি না।মুক্তার কথায় তাদের মুখ বন্ধ হয়ে গেল।তারপর সবাই আবার মুভির প্রতি মনোযোগ দিল।মাঝপথে বিরতি হলো। তারপর আবার সিনেমা শুরু হলো। দেখতে দেখতে পুরো আড়াই ঘণ্টা কেটে গেল।প্রথম শো শেষ হলো। ম্যানেজারের ক্রিং ক্রিং শব্দে সবাই হল থেকে বেরিয়ে পড়ল।নিলয় বলল,—পারু, এদিকে এসো।পারু এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,—কিছু বলবে?—হ্যাঁ, বলব। চলো, আমরা নিরিবিলি কোথাও বসি।পারু না করল না।পারু ও যোবেদাকে কিছুটা দূরে বসিয়ে রেখে নিলয় পারুকে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে গিয়ে বসল।তারপর নিলয় বলল,—পারু, আমার রেজাল্ট বেরিয়েছে। শুনেছ?—হ্যাঁ, শুনেছি।—কার কাছে শুনলে?—শরিফ স্যারের কাছে শুনেছি। উনি তোমার খুব প্রশংসা করলেন।—কী প্রশংসা?—তুমি যে শুধু ভালো রেজাল্ট করেছ তা না। উনি বললেন, নিলয় হাজারে একজন। যেমন লেখাপড়া, তেমন আদব-কায়দা, স্বভাব-চরিত্রও উত্তম।নিলয় হেসে বলল,—ও গড! স্যার আমার এত প্রশংসা করলেন! অথচ তোমার চোখে আমি ভালো না, বাজে!পারু মুচকি হেসে বলল,—ওরে আমার বোকা প্রেমিক! সবকিছু বলে দিতে হয়? তুমি ভালো না হলে কি তোমার সঙ্গে মন বিনিময় করতাম?—তো ম্যাডাম, ভাব করতে এত দেরি করলেন কেন?—বারে! একটু পরীক্ষা করে দেখতে হবে না? ভালোবাসার গভীরতা কতটুকু?—তো এখন কী বুঝলে?—মোটামুটি কিছুটা।—মানে এখনো পুরোপুরি বুঝোনি?—জি না সাহেব। বাকি পরীক্ষাটা বিয়ের পর।—ওকে জান, তাই হবে।কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিলয় বলল,—পারু, আমার প্রথম আশা—ভালো রেজাল্ট—পূরণ হয়েছে। এবার দ্বিতীয় আশা, ডাক্তার হয়ে তোমাকে জীবনসঙ্গী করা। আমি এখন টেনশনমুক্ত ও সুখী। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া নেই।পারু মৃদু হেসে বলল,—ভালো।নিলয় আবেগভরা কণ্ঠে বলল,—পারু, তোমার জন্য আমার মন-প্রাণ উতলা। তোমাকে এক পলক না দেখলে দেহে স্বস্তি ফিরে আসে না। তোমাকে যতই দেখি, ততই মুগ্ধ হই। মনে হয়, তোমার রূপে জাদু আছে।পারু মুচকি হেসে বলল,—নিলয়, আপাতত রোমান্সের প্রসঙ্গ বাদ দাও। বলো, তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?—পারু, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, আমি একজন আদর্শ ডাক্তার হয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করব। আর তুমি হবে আমার হৃদয়ের রানী।—গুড আইডিয়া। শুনে খুশি হলাম।হঠাৎ নিলয়ের কিছু একটা মনে পড়ল।—ওহ পারু! আমি আসল কথাটাই বলতে ভুলে গিয়েছি।—বারণ করল কে? আর্লি বল।—আমি আগামী পরশু শহরে চলে যাচ্ছি ডাক্তারি পড়ার জন্য। তোমার সঙ্গে আর সহজে দেখা হবে না। তাই বলছিলাম...—বলছিলাম কী? থামলে কেন? বলো।নিলয় একটু থেমে বলল,—কাল বিকেল তিন ঘটিকার সময় তুমি ওই রুপালি দীঘির পাড়ে আসবে। তোমার সঙ্গে আমার অনেক জরুরি কথা আছে। তাছাড়া আমার প্রত্যাগমনের শেষ মুহূর্তটা ওই রুপালি দীঘির পাড়ে কাটাতে চাই। কী বল তুমি?পারু কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,—আমি আর কী বলব? তুমি যা ভালো মনে করবে, তাতে আমি রাজি।—তাহলে তুমি সিউর আসবে?—ওকে, আসব।—চলো, এবার ওঠা যাক।ঠিক তখনই যোবেদা ও মুক্তা এসে বলল,—পারু, এই তোদের ক\'মিনিট না! দেখ, দেখ! মশার কামড় খেতে খেতে পা একেবারে ফুলে লাল হয়ে গেছে।পারু লজ্জা পেয়ে বলল,—সরি সই, ভুল হয়ে গেছে। চলো, এবার বাড়ি ফেরা যাক।চারজন বাড়ির পথে রওনা হলো।কিন্তু পারুর মনের ভেতর তখন এক অদ্ভুত অস্থিরতা।আগামীকাল রুপালি দীঘির পাড়ে নিলয় তাকে কী বলতে চায়?শহরে যাওয়ার আগে কি শুধু বিদায় জানাবে, নাকি তাদের ভালোবাসার গল্পে আসতে চলেছে নতুন কোনো মোড়?চলবে...
0 Comments