একই মুখ, একই রক্ত, একই পছন্দ,তবুও তারা দুজন—দুই ভিন্ন মানুষ। সামির চৌধুরী আর সাহিল চৌধুরী—যমজ ভাই। পৃথিবীর চোখে তাদের আলাদা করে চেনার মতো তেমন কিছু নেই। একই চেহারা, একই হাসি, একই কণ্ঠস্বর। শুধু চোখ দুটোই তাদের আলাদা করে—সামিরের চোখের মণি কালো, আর সাহিলের ধূসর-বাদামি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে চলেছে এক অদৃশ্য যুদ্ধ। কথায় নয়, প্রকাশ্য বিরোধেও নয়—বরং একে অপরের পছন্দের জিনিস কেড়ে নেওয়ার নীরব প্রতিযোগিতা। এবার প্রতিযোগিতা কোন জিনিস নিয়ে নয়, এবার প্রতিযোগিতা হবে স্বর্ণা কে নিয়ে।
নেশাতুর অধিকার
আমার ভুল হয়ে গেছে সাহিল... প্লিজ, এরকম করো না। প্লিজ... স্বর্ণার কণ্ঠ কেঁপে উঠল, আহ্... সাহিল... প্লিজ... পরক্ষণেই সাহিল হঠাৎ সরে গেল। স্বর্ণা হাঁপাতে হাঁপাতে বিছানায় পড়ে রইল। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। গলার পাশে হাত রাখতেই আঙুলের নিচে স্পষ্ট অনুভব হলো দাঁতের দাগ। আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থা দেখে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল সে। সাহিল তখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে। তার মুঠো শক্ত। চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। চোখে এমন এক রাগ, যা দেখে স্বর্ণার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তোকে আমার খুন করতে ইচ্ছে করছে। স্বর্ণা চুপ। সাহিল ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল। তোর সাহস হলো কী করে? আমার বউ হয়ে অন্য কারও সামনে এমনভাবে— আরে! আমি কি ইচ্ছে করে ওখানে দিয়েছিলাম? তুই গেলি কেন? আমি তো তোমাকে ভেবে— তোর কোনো কথা আমার শুনতে ইচ্ছে করছে না। সাহিলের গলা আরও ভারী হয়ে উঠল। তুই সর আমার চোখের সামনে থেকে। স্বর্ণা কিছু বলল না। বিছানায় বসেই কিছুক্ষণ সাহিলের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। এক পা। দুই পা। সাহিলের ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দুহাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল। সাহিল সঙ্গে সঙ্গে তার হাত সরিয়ে দিতে চাইল। স্বর্ণা, ছাড়। স্বর্ণা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, না। আমি ছাড়তে বলছি। তুমি রাগ করে থাকলে আমি ছাড়ব না। সাহিল চোখ বন্ধ করল। নিজেকে বোঝাতে লাগল, শান্ত হতে হবে। কারণ সে জানে—এই মুহূর্তে স্বর্ণাকে কাছে টেনে নিলে তার রাগ আর অভিমান কোন দিকে যাবে, সে নিজেও জানে না। কিন্তু স্বর্ণা আজ কোনো বাধাই মানতে রাজি নয়। সে সাহিলের বুকে মুখ রাখল। খুব আস্তে বলল, আমাকে দূরে সরিয়ে দিও না। সাহিল চোখ খুলল। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। স্বর্ণা চোখ তুলে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হলো। কয়েক মুহূর্ত শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল তারা। স্বর্ণা এবার পা একটু উঁচু করে দাঁড়িয়ে সাহিলের ঠোঁটে চুমু খেল। কিন্তু সাহিল তার থেকে বেশি লম্বা হওয়া ভালো ভাবে কিস করতে পারলো না। সাহিল স্বর্ণার এমন কান্ড দেখে স্বর্ণা কে কোলে তুলে নিল। স্বর্ণা চমকে তার গলা আঁকড়ে ধরল। আর দুই পা দিয়ে তার কোমর আঁকড়ে ধরল। সাহিল... চুপ। সাহিল তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। স্বর্ণার বুকের ভেতর তখন অদ্ভুত এক ধুকপুকানি। সাহিল তার ওপর ঝুঁকে এলো। তারপর কোনো সতর্কতা ছাড়াই ঠোঁটে ছুঁয়ে দিল এক তীব্র চুম্বন। স্বর্ণা চোখ বন্ধ করে ফেলল।তার নিঃশ্বাস এলোমেলো হয়ে গেল। সাহিল কিছুক্ষণ পর সরে এসে তার মুখের দিকে তাকাল। স্বর্ণার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। সেই দৃশ্য দেখে সাহিলের চোখ আরও গভীর হয়ে উঠল। আমাকে এভাবে পাগল করিস না, স্বর্ণা। স্বর্ণা কাঁপা গলায় বলল, আমি কি করলাম। সাহিলের ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটল।সে স্বর্ণার কপাল থেকে চুল সরিয়ে দিল। তারপর একে একে কপাল, গাল, চোখের কোণে নিজের ভালোবাসার ছাপ রেখে যেতে লাগল। আস্তে আস্তে সাহিল নিচের দিকে এগিয়ে এলো, স্বর্ণার শাড়ির আঁচল পেট থেকে সড়িয়ে চুমু দিতে লাগলো। মূহুর্তেই স্বর্ণা অস্থির হয়ে উঠছিল। হাত পা দুই দিকে ছটফট করতে লাগলো। নরমাল হ স্বর্ণা। আমি কীভাবে নরমাল হবো। যেখানে আমি সিজারে হয়েছি। বালের ছেড়ি! রোমান্টিক মুডের বারোটা বাজালে তোর খবর আছে। স্বর্ণা এবার নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। সাহিল এবার কোন কথা না বলে উঠে পড়লো স্বর্ণার উপর। এক হাত দিয়ে স্বর্ণার দুই হাত উঁচু করে ধরলো। অন্য হাত গেলো স্বর্ণার বুকের ফোলা ফোলা মাংস স্তুপে। কেঁপে উঠলো স্বর্ণার পুরো শরীর। সাহিলের কাঁধ আঁকড়ে ধরল। সাহিল... একটু থামো। কেন? তুমি আজ অন্যরকম। আজ? সাহিল নিচু স্বরে হেসে উঠল। আজ প্রথম বুঝলি? স্বর্ণা কিছু বলল না। সাহিল এবার স্বর্ণার ঠোঁটে কিস করতে লাগল। আর এক হাত দিয়ে স্বর্ণার বক্ষভাজে হাত নিয়ে গেল। স্বর্ণা তখন নিজের মধ্যে নেই মনে হচ্ছে। একটু আগে এত টেনশন কি হবে, আর এখন মনে হচ্ছে এই মূহুর্ত যেনো এখানেই থমকে যায়। স্বর্ণা বুঝতে পারল—এই মানুষটার ভালোবাসাটাও স্বাভাবিক নয়। ভালোবাসলে পুরোটা দিয়ে ভালোবাসে। আর রাগ করলে সেই রাগও পুরো পৃথিবীকে অন্ধকার করে দিতে পারে। আস্তে আস্তে সাহিলের ভালবাসা আর সহ্য করতে পারছিল না স্বর্ণা। আজ তাদের প্রথম একসাথে থাকা। বলতে গেলে বিয়ে হলে ও বাসর করার সুযোগ পায় নি সাহিল। তাই এই মুহূর্তে সে পাগল হয়ে গেছে স্বর্ণা কে পেয়ে। নিজের সবটা উজাড় করে দিতে চাচ্ছে স্বর্ণা কে। স্বর্ণার সাহিল কে আটকাতে চাইল। কিন্তু সাহিলের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁধা দেওয়ায় সাহস পেল না। প্রায় ঘন্টা খানিক পর সাহিল শুয়ে পড়ল স্বর্ণার বুকে। স্বর্ণা এবার নিজেদের দিকে তাকালো যেখানে কাপড়ের কোন ছিটেফোঁটা ও তাদের গায়ে নেই। সে লজ্জায় সাহিলের ঘাড়ে মুখ গুজলো। বুঝলি স্বর্ণা আগে যদি জানতাম আমার বউ আমাকে সামলাতে পারবে। তাহলে এতদিন বাসর না করে লন্ডনে পড়ে থাকতাম না। তুমি একদম অসহ্য! তবুও তো আমার কাছেই আছিস। স্বর্ণা আর কিছু বলল না। শুধু মুখ লুকিয়ে ফেলল সাহিলের ঘাড়ে। সাহিলও তাকে আরও কাছে টেনে নিল। সেই রাতেই স্বর্ণা প্রথম বুঝল— সাহিলকে ভালোবাসা যতটা সহজ, এই মানুষটাকে সামলানো তার চেয়ে হাজার গুণ কঠিন। --- কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও স্বর্ণা জানত না, আজকের রাতটা তার জীবনে এমন একটা মোড় নিয়ে আসবে। সাহিলের বাবা-মা আসবেন শুনে সকাল থেকেই সে ব্যস্ত ছিল। আলমারি খুলে একটার পর একটা পোশাক দেখছিল। ঠিক তখনই তার মা ঘরে এসে হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বললেন, এটা পরিস। স্বর্ণা অবাক হয়ে তাকাল। মা, এটা— কথা শেষ করার আগেই তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্বর্ণা শাড়িটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মুখে হাসি ফুটল। আজ যদি শ্বশুর-শাশুড়িকে একটু নিজের করে নেওয়া যায়! সেই চিন্তায় বেশ যত্ন নিয়ে তৈরি হয়ে নিল সে। চুল গুছিয়ে নিল। হালকা সাজল। শাড়ির আঁচল ঠিক করল। আয়নায় নিজেকে দেখে মনে মনে বলল, আজ শাশুড়ি মাকে পটাতেই হবে। কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে মায়ের ডাক এলো। স্বর্ণা! নিচে আয় মা! আসছি! স্বর্ণা নিচে নেমে এলো। ড্রয়িংরুমে তখন দুই পরিবারের সবাই বসে। স্বর্ণাও স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিল। ঠিক তখনই দরজার দিকে সবার দৃষ্টি গেল। একজন যুবক ভেতরে ঢুকল। স্বর্ণা তাকিয়েই থমকে গেল। সাহিল! পরক্ষণেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। না। এটা সাহিল নয়। এটা সামির। সাহিলের জমজ ভাই। উচ্চতা, গড়ন, মুখের অবয়ব—সবকিছু প্রায় একই। শুধু চোখ আলাদা। সামিরের চোখের মণি গভীর কালো। আর সাহিলের চোখের মণি ধূসর-বাদামি। সামির এগিয়ে আসতেই শামসুল চৌধুরী হাসিমুখে বললেন, ছেলে-মেয়ে যখন রাজি, তখন আর দেরি করে লাভ কী? স্বর্ণার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। মানে? শামসুল চৌধুরী সামিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, সামির, আংটিটা পরিয়ে দাও স্বর্ণা মা-কে। মুহূর্তেই স্বর্ণার মনে হলো, তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। কী? সামির ইতিমধ্যে তার দিকে এগিয়ে আসছে। হাতে একটা আংটি। স্বর্ণা কিছু বলার আগেই— দরজার সামনে থেকে ভেসে এলো ভারী, ঠান্ডা একটা কণ্ঠস্বর। আমার বিয়ে করা বউকে আংটি পরানোর সাহস হলো কী করে তোর? চলবে.... নেশাতুর অধিকার আরশিয়া জান্নাত সূচনা পর্ব
Related Story
Tags
- ডার্ক
- রোমান্টিক
- মানুষ
- মানুষের
- মন
- #অন্যায়
- #প্রতিবাদ
- #সংগ্রাম
- #মুক্তি
- #ন্যায়
- #অধিকার
- #বিদ্রোহ
- #জনরোষ
- #স্বাধীনতা
- #সংগ্রামীসঙ্গীত
- #ইতিহাস
- #বিপ্লব
- #বীরত্ব
- #সাহস
- #ন্যায়েরজ্বলন
- #ভালবাসা
- #প্রেমকবিতা
- #রোমান্টিক
- #কবিতা
- #হৃদয়স্পর্শী
- #শব্দেরমায়া
- #প্রেমেরঅনুভূতি
- #কবি
- #লাভস্টোরি
- #ভুবনবাসি
- গ্রামীণজীবন,
- কৃষকজীবন,
- ধানক্ষেত, প্রকৃতি,
- রোমান্টিকগ্রাম,
- সৌন্দর্যপ্রকৃতি, গ্রাম্যসাহিত্য,
- সূর্যাস্ত
- কষ্ট,
- ছায়া,
- দুঃখ,
- স্মৃতি,
- আশা,
- স্বপ্ন,
- জীবন,
- তুষার,
- কবিতা,
- বেদনা,
- একাকীত্ব,
- ভোর,
- অনুভূতি
0 Comments